Saturday, 11 November 2017

বিয়ের পূর্বে হবু স্ত্রী সম্পর্কে যে বিষয়গুলি জেনে নেয়া জরুরি

দাম্পত্য মানেই একজন মানুষের সাথে নিজের বাকিটা জীবন কাটানো। যদিও আজকাল ডিভোর্স খুব সহজ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তবুও যতটা সোজা ভাবা হয় বিষয়গুলো আসলে ততটা সহজ নয়। স্ত্রী এমন কেউ নন যে পছন্দ না হলেই বদলে ফেলবেন। বরং সে পরিস্থিতি যেন না হয়, সে কারণে বিয়ের আগেই কিছু খোঁজখবর করে নেয়া ভালো। বিয়েতে কিছু বিষয় একটু ভালো করে জেনে নেবেন। এতে সব শেষে লাভ হবে আপনাদের দুজনেরই।

অতীত সম্পর্কের ব্যাপারেও যথেষ্ট ধারণা রাখুন :- বিয়ের পর স্ত্রীর অতীত থেকে একজন প্রেমিক বা ভালোবাসার পুরুষ উঠে আসলে নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগবে না? কিন্তু সেই সম্পর্ক যদি “সারপ্রাইজ” হিসাবে দেখা দেয় বিয়ের পর, তাহলে সমস্যা। তাই আগেই জেনে রাখুন স্ত্রীর পুরনো সম্পর্কের ব্যাপারে, যেন ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটি আর আপনাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে না পারে। সবচেয়ে ভাল হয় যে সকল ছেলে বা মেয়ে বিবাহ পূর্ব অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক রাখে তাদের পরিহার করা।

জেনে নিন তাঁর পারিবারিক ইতিহাস :- শুধু পরিবারের সবার নাম-পরিচয়ই নয়, নিকট আত্মীয়দের পেশা এবং অন্যান্য জরুরী তথ্যগুলো জেনে রাখুন। সাথে এটাও জেনে রাখুন যে কোন বংশানুক্রমিক ব্যাধি আছে কিনা। পরিবারে কোন অপরাধের রেকর্ড বা অন্য কোন অসামাজিক বিষয়ের রেকর্ড আছে কিনা। পরিবার গঠন ও দাম্পত্য সম্পর্কে তিনি কী ভাবেন :- বিয়ের আগেই এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নেয়া দরকার। কারণ সংসার করবেন আপনারা, পরিবার গঠন করবেন আপনারা। এক্ষেত্রে পরস্পরের মূল্যবোধ যদি না মেলে, সেক্ষেত্রে এই লম্বা জীবন পার করাটা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তাই আগেই জেনে নিন দাম্পত্য সম্পর্কে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।

তাঁর অসুস্থতা সম্পর্কেও জানুন :- এই বিষয়টি জানার দিকে আমরা খুব একটা মনযোগ দেই না। কিন্তু নারী ও পুরুষ উভয়েরই পরস্পরের মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে রাখা উচিত। একসাথে চলার পথে অসুখ বিসুখের আক্রমণ হবেই, জীবনে ঘটতে পারে নানান দুর্ঘটনাও। তাই দুজনেরই শারীরিক যে কোন সমস্যা ও মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তাঁর বন্ধুদের চিনে নিন :- হবু স্ত্রীর বন্ধু বান্ধবদের সাথে পরিচিত হয়ে নিন। এতে খুব পরিষ্কার ধারণা পাবেন স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দ এবং তাঁর পরিচিত সার্কেল সম্পর্কে। এবং জানতে পারবেন এমন অনেক অজানা বিষয় যেগুলো অন্য কোনভাবে জানা সম্ভব না। স্ত্রীর ধ্যান ধারণার মূল্যায়ন করতে সুবিধে হবে আপনার।

এবার আসুন আরো বাস্তবতার গভীরে যাই – আপনার হবু স্ত্রী ধর্মীয় বিষয়ে কতটা জ্ঞান রাখেন এবং সে অনুযায়ী কতটা চলাফেরা করেন সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখুন। শুধু মাত্র এই বিষয়টির প্রতি যদি বিশেষ গুরত্ব দেন তাহলেও আপনি বিয়ের পর অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে অনায়াসেই রেহাই পাবেন !

তালাক ও দেনমোহর সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নঃ আমি ( ২০ )একটি প্রায়ভেট কলেজে পড়ছি ।গত আগস্ট মাসের ২৮ তরিখে অনেকটা জোরপূর্বক ৫৫০০০০ টাকা দেনমহর ধার্য করে আমার সাথে একটি মেয়ের ( ১৪) বিয়ে দিয়ে দেয় তার পরিবার । কিন্তু আমার পরিবার কিছুতেই এ বিয়ে মেনে নিচ্ছেনা । এমন কি পড়াশুনার খরচও দিচ্ছে না । আর মেয়েটার সাথে আমার সম্পর্ক ও ভালনেই তাই তাকে তালাক দিতে চাচ্ছি । এখন কি আমাকে সমস্ত দেনমহর টাকা একসাথে দিতে হবে ।

উত্তরঃ
আইন অনুযায়ী দেনমোহর স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। কারণ, দেনমোহর সব সময়ই স্বামীর ঋণ। দেনমোহর দুই প্রকার। একটি তাৎক্ষণিক দেনমোহর, যা স্ত্রীর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে অস্বীকার করতে পারেন। আরেকটি হচ্ছে বিলম্বিত দেনমোহর। বিলম্বিত দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদ অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত দেনমোহরের কিছু পরিমাণ বিয়ের সময় তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবে দেওয়া হয় এবং তা কাবিননামায় লিখিত থাকে। বাকিটা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে ধরা হয়। তবে স্বামীকে অবশ্যই দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়। আপনার ক্ষেত্রেও একই কথা। তালাক দিলে দেনমোহর যদি সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক বাকি থাকে আইন অনুযায়ী যদি তা পরিশোধ করে দিতে হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কেন?

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কী এবং কেন?
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে সরকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। সরকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের তথ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভূক্তি করতে হয়। তালিকাভূক্তি ফরমটিকে কাবিননামাও বলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধনী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত তথ্য প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধি বিধান নেই। তবে ২০১২ সালে প্রণীত “হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন” অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধনের বিধান থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এরূপ বিধান নেই। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে।
কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় : ২০০৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হলে ৩০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি করতে রেজিস্ট্রেশন সরকারি ফি দিতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর মোট পরিমাণ ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপর হবে না। এই ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তন হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।
আইন অনুযায়ী বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বা শর্ত যেমন, বর কনের বয়স, উভয়ের সম্মতি, দেনমোহর, তালাক প্রদানের ক্ষমতা ইত্যাদি পূরণ সাপেক্ষে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। খ্রিস্টান বিবাহের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ সম্পাদন করবেন তিনিই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর কাজী উভয়পক্ষকে রেজিস্ট্রেশন ফরম বা কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সুফল-কুফল : বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলে আইনগত কিছু সুফল পাওয়া যায় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফলও রয়েছে অনেক, যেমন রেজিস্ট্রেশনের ফলে,
১) উভয় পক্ষ বিবাহ অস্বীকার করার আইনত সুযোগ থাকেনা এবং এর দ্বারা সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা আরোপিত হয়। ২) রেজিস্ট্রেশনের ফলে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ণয় সহজ হয়। ৩) স্ত্রী তার প্রাপ্ত দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় বা দাবি করতে পারে। ৪) সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ণয় করতে সহজ হয়। ৫) স্বামী দ্বিতীয় বিবাহের জন্য উদ্যোগী হলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। ৬) রেজিস্ট্রেশনের ফলে বাল্য বিবাহ রোধ সম্ভব হয়। ৭) রেজিস্ট্রেশনের ফলে স্ত্রী ডিভোর্স দেয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বৈধতা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা যায় না। রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ই আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত বা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আবার, রেজিস্ট্রেশন না করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। মোট কথা, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একদিকে যেমন বাধ্যতামূলক অন্যদিকে এটি একটি সামাজিক এবং পারিবারিক প্রামাণ্য দলিল।

তালাক নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

রশ্ন ১. মুখে মুখে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হবে কি ?
উত্তর. না, ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টেশন আইন অনুযায়ী কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনকে পাঠাতে হবে।
প্রশ্ন ২. স্বামী কতৃর্ক স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান ছাড়া তালাক দিলে তালাক কি কার্যকর হবে ?
উত্তর. হ্যাঁ, তালাক কার্যকর হবে, তবে নোটিশ প্রদান না করায় স্বামীর ১ বছরের কারাদন্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ড হবে।
প্রশ্ন ৩.স্বামী কি স্ত্রীকে কোন কারণ ছাড়াই তালাক দিতে পারেন ?
উত্তর. হ্যাঁ, স্বামী-স্ত্রীকে কোন প্রকার কারণ ছাড়াই তালাক দিতে পারেন।
৪. স্ত্রী কি স্বামীকে কোন কারণ ছাড়া তালাক দিতে পারেন ?
উত্তর. না, আইনে উল্লেখিত কারণ ছাড়া স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না।
৫. গর্ভাবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলে তালাক কি কার্যকর হয় ?
উত্তর. না, গর্ভাবস্থায় তালাক দিলে তালাক কার্যকর হয় না। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করে ৯০দিন পর তালাক কার্যকর করতে হয়।
৬. বিচ্ছেদপ্রাপ্ত/ তালাকপ্রাপ্ত স্বামী- স্ত্রী কি পুনরায় ঘর সংসার করতে পারেন? 
উত্তর. ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৭ (৬) ধারা অনুসারে তালাকের মাধ্যমে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, বিচ্ছেদপ্রাপ্ত/ তালাকপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী পুনরায় একত্রে ঘর- সংসার করতে চাইলে নতুন করে নিয়ম অনুসারে বিয়ে করতে হবে; তবে পুনর্বিবাহ করে ঘর-সংসার করায় আইনতঃ কোন বাধা নেই।

তালাক প্রদানের পূর্বে করনীয়

দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রী’র মধ্যে বিবাধ-বিরোধ মনোমালিন্য দেখা দিতেই পারে। স্বামী স্ত্রীর মাঝে এ ধরনের বিরোধ দেখা দিলে তাদের জন্য নসীহত রয়েছে যে “আর তাহলে প্রত্যেকেই যেন অপরের ব্যাপারে নিজের মধ্যে ধৈর্য্য ও সহ্য শক্তি রক্ষা করে অপরের কোন কিছু অপছন্দনীয় হলে তা ঘৃনা হলেও সে যেন দাম্পত্য জীবন রক্ষার সার্থে তা অকপটে বরদাশত করতে চেষ্টা করে।
এর পরেও যদি দাম্পত্য জীবন সংরক্ষন করতে ব্যার্থ হয় তবে সে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন “তোমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন বিরোধ মনোমালিন্য হয়েছে বলে ভয় কর তাহলে তোমরা স্বামীর পরিবারের থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। তারা দু’জন যদি বাস্তবিকই অবস্থার সংশোধন করতে চায় তাহলে আল্লাহ তাদের সেজন্য তওফীক দান করবেন এবং তার সংশোধন করে স্বমী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে মিল মিশ করার চেষ্টা করবেন। আর যদি মিলমিশ অসম্ভব বলে মনে করেন তবে তাদের মধ্যেবিচ্ছেদের ব্যাবস্থা করবেন।”
মুসলিম পারিবারিক আইনে বিরোধ মিমাংসার জন্য এবং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আপোষ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যান বা সালিসী পরিষদের উপর। তিনি উভয় পক্ষকে নটিশের মাধ্যমে উপস্তিত করার জন্য বলবেন। কোন পক্ষ যদি হাজির না হয় তবে তাকে হাজির করার ক্ষমতা তার নেই। স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করার চেষ্টা করা ছাড়া চেয়ারম্যানের আর কোন দ্বায়িত্ব নেই। তালাক কার্যকর অথবা অকার্যকর কোনটাই করার এখতিয়ার চেয়ারম্যানের নেই।

স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে করণীয়

কোন ব্যক্তির যদি স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আর একটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগনের মধ্যে সর্বশেষ স্ত্রী যে এলাকার সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট আর একটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং এই বিয়েতে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগনের সম্মতি রয়েছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।
 
১৯৬১ সালের মুসলিম আইন অধ্যাদেশ মোতাবেক কোন ব্যক্তিই বর্তমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিসী পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ের চুক্তি করতে পারেনা। সালিসী পরিষদ যে সকল বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় অন্য বিবাহের অনুমতি দিতে পারেন।
 
*)বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, *)শারীরিক মারাত্মক দূর্বলতা, *)দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, *)মানসিকভাবে অসুস্থতা বা উন্মত্ততা *)দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন ডিক্রীর ইচ্ছাকৃত বর্জন।

যে ব্যক্তি সালিসী পরিষদের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিবাহ করেন তার জন্য ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী সাজা হলো:
(ক) বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগনের প্রাপ্য তাত্‍ক্ষনিক ও বিলম্বিত দেনমোহরের টাকা তত্‍ক্ষনাত্‍ পরিশোধ করতে হবে। মোহরানার টাকা ঐরুপে পরিশোধ করা না হলে তা বকেয়া ভূমি রাজস্বরুপে আদায়যোগ্য হবে।
(খ) অভিযোগে দোষী প্রমানিত হলে ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১০,০০০/=(দশ হাজার) টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দন্ড হতে পারে।

ওয়ারিশ সনদ কেন দরকার এবং কিভাবে তুলতে হয়

ওয়ারিশ সনদ কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/ সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

কিভাবে পাবেন?

ওয়ারিশ সনদ সাধারণত: স্থানীয় পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র । যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকার/ওয়ারিশদের স্বীকৃতি দেয় ।
আবার ওয়ারিশ সনদ দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। সাধারণত অর্থ ও অস্থাবর সম্পত্তির দেনা – পাওনা ইত্যাদির সুষ্ঠ হিসাব পাওয়া জন্য ও যাতে করে ভবিষ্যতে কোন ধরনের ঝামেলা না হয় সে জন্য দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়।

এ সনদের জন্য কি কি লাগবে?

# ওয়ারিশগণের ১ কপি ছবি (সত্যায়িত) # মৃত্যু সনদ ১ কপি (সত্যায়িত) # মেয়র.সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন # সংশ্লিষ্ট বাজার চৌধুরী/হেডম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন।

আবেদন ফরমেট

ওয়ারিশান সনদ পাওয়ার আবেদন পত্র

বরাবর,
চেয়ারম্যান সাহেব
আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদ
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিষয়ঃ   ওয়ারিশান সনদ পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে আমার  পিতাঃ মৃত: সৈয়দ গোলাম মাওলা রেজভী  , পিতাঃ মৃতঃ সৈয়দ হাসান আলী রেজভী সাংঃ রসুলপুর, উপজেলাঃ কালিয়াকৈর, জেলাঃ গাজীপুর।
সে মৃত্যু কালে নিম্ন লিখিত  ওয়ারিশাগনকে রাখিয়া যায়।
ক্রমিক নং ওয়ারিশানদের নাম সম্পর্ক বয়স মন্তব্য
 ১ সৈয়দা ফিরোজা ইয়াসমিন  রেজভী মেয়ে ৫৭
২    সৈয়দ শামসুল আরেফিন রেজভী ছেলে ৫৫
৩ সৈয়দা আফরোজা রহমান মেয়ে ৫২
৪ সৈয়দ হাসিব আল হাসান রেজভী ছেলে ৪৭
অতএব,  মহোদয়ের  সমীপে বিনীত প্রার্থনা এই, উল্লেখিত  বিষয়ে আমাকে একটি ওয়ারিশ  সনদ প্রদান করিতে আপনার সু- আজ্ঞা হয়।

বিনীত নিবেদক
নামঃ
তারিখঃ                                                        পিতাঃ
গ্রামঃ রসুলপুর
স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে উপরোক্ত বনর্না সত্য  পাওয়া গেল।
সাটির্ফিকেট প্রদান করার জন্য সুপারিশ করা হল।
………… ………… …………
০১ নং ওয়ার্ডের সদস্য

বিদেশ থেকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

এই জন্য অন্তত ১ দিনের জন্য হলেও  husband k বাংলাদেশে আসতে হবে বাংলাদেশে এসে  কাজী অথবা একজন আইনজীবীর কাছে যেতে হবে, সেখানে গিয়ে  তার স্ত্...