Saturday, 11 November 2017

জাতীয় পরিচয়পত্র হারালে বা সংশোধনে কী করবেন

দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা পেতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা আবশ্যক। আবার যাঁরা নতুন পরিচয়পত্র করতে চান, তাঁদের অনেকেই এ বিষয় সম্পর্কে অবগত নন। অনেকে আবার জানেন না, কীভাবে পরিচয়পত্র করতে হবে, এ জন্য কোথায় যেতে হবে , কী কী প্রয়োজন ইত্যাদি। আবার পরিচয়পত্র ছিল, হারিয়ে গেছে বা পরিচয়পত্রে ভুল তথ্য রয়েছে সংশোধন করা প্রয়োজন—এমন অনেকেই আছেন বুঝতে পারছেন না, তাঁরা কীভাবে নতুন পরিচয়পত্র পাবেন বা ভুল তথ্য ঠিক করবেন। তাঁদের জন্যই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।
নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলে
বাংলাদেশে কারো বয়স ১৮ বছর হলেই কেবল তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারেন। দেশের প্রতিটি উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে এ-সংক্রান্ত আবেদন জমা দিতে হবে। সেখানে পরিচয়পত্র বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সপ্তম তলায় আবেদন করে তৈরি করে নিতে পারেন নিজের পরিচয়পত্র।
এবার চলুন, জেনে নেওয়া যাক, আপনার নতুন পরিচয়পত্র করতে হলে যা যা লাগবে :
১. এসএসসি বা সমমানের সনদ, ২. নাগরিকত্ব সনদ, ৩. জন্মনিবন্ধন সনদ, ৪. চাকরির প্রমাণপত্র, ৫. পাসপোর্ট, ৬. নিকাহনামা, ৭. পিতা, স্বামী কিংবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত এসব নথি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা নথির মধ্যে যাঁর যা ঘটেনি, তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন : যাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম, তাঁকে এসএসসি বা সমমানের সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে না। আবার কেউ যদি চাকরি না করেন, তাঁকে চাকরির প্রমাণপত্র দিতে হবে না। যাঁদের পাসপোর্ট নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে তা দেওয়ার দরকার নেই।
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে আপনার নিকটবর্তী থানায় ভোটার নম্বর বা আইডি নম্বর উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এর পর জিডির মূল কপিসহ প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া আবেদনপত্র নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিতে হবে। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু আপনি যদি দেখেন, নতুন করে পাওয়া পরিচয়পত্রে ভুল আছে, তখন কী করবেন? চলুন জেনে নিই, পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনে কী করতে হয়।
ভুল সংশোধনে করণীয়
এক কপি ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের পরিচালকের কাছে আবেদনপত্র লিখতে হবে। আর এই আবেদনপত্র পাওয়া যায় আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের নিচতলায়। সেখানে ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। ওই তারিখে রসিদসহ গিয়ে আপনাকে নিয়ে আসতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র।
যদি নাম পরিবর্তন করতে চান
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম বদল করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এর নিচে হলে দেওয়ার দরকার নেই। বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কপি নাম পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীকে শুনানির দিন প্রকল্পের কার্যালয়ে কাগজপত্রের মূল কপিসহ হাজির হতে হবে।
স্বামীর নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া
বিয়ের পর কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে তাঁকে কাবিননামা ও স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আর বিবাহবিচ্ছেদের কারণে স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে আবেদনকারীকে তালাকনামার সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তন
পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তন করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি বা এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ অথবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড। পিতা বা মাতার পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি পিতা বা মাতা বা উভয়ে মৃত হলে দিতে হবে ভাই বা বোনের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। পিতা-মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।
জন্মতারিখ সংশোধন
যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের, তাঁদের আবেদনপত্রের সঙ্গে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। বয়সের পার্থক্য অস্বাভাবিক না হলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সনদের মূল কপি প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে পারে। যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের কম, তাঁদের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগের তারিখে পাওয়া সার্ভিস বুক বা এমপিওর কপি ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মসনদ, নিকাহনামা, পাসপোর্টের কপি প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রকল্প পরিচালক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দরকার হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।

যেসব কারনে জামিন পাওয়া যাবে

ধারা ৪৯৬ অনুযায়ি। নিচের ক্ষেত্র গুলোতে জামিন মঞ্জুর করা যাবে।
জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তি কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে, বা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন।
তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা হইবে না। শুরুতে ধারা ৪৯৭
যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে :
(১) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে অথবা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইেত পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে উক্তরূপে দেওয়া যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন।
(২) ক্ষেত্রমতে তদন্ত, ইনকোয়ারী বা বিচারের কোন পর্যায়ে উক্ত অফিসার বা আদলতের নিকট যদি প্রতিয়মান হয় যে, আসামী জামিনের অযোগ্য কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই, কিন্তু তাহার অপরাধ-সম্পর্কে আরও ইনকোয়ারির পর্যাপ্ত হেতু রহিয়াছে, তাহা হইলে এইরূপ ইনকোয়ারী সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে, অথবা উক্ত অফিসার বা আদলত বা আদালতের ইচ্ছানুযাসারে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিত পারিবেন।
(৩) কোন অফিসার বা আদালত (১) উপধারা বা (২) উপধারা অনুসারে কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দিলে তাহার ঐরূপ করিবার কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন। (৪) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার সমাপ্ত হইবার পর এবং রায় দানের পূর্বে কোন সময় আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী উক্ত অপরাধে দোষী নহে বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে আসামী হাজতে থাকিলে রায় শ্রবণের উদ্দেশ্যে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদনের পর তাহাকে মুক্তি দিবেন।
(৫) হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত এবং নিজে মুক্তি দিয়া থাকিলে অন্য কোন আদালত এই ধারা অনুসারে মুক্তিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করাইতে ও তাহাকে হাজতে প্রেরণ করিতে পারিবেন। শুরুতে ধারা ৪৯৮ জামিন মঞ্জুর ও জামিনের অর্থের পরিমাণ হ্রাসের ক্ষমতা: এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেক বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মকদ্দমার যথাযথ পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা অত্যধিক হইবে না এবং দন্ডের পর আপীল থাকুক বা না থাকুক, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করিবার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করিবার নির্দেশ দিতে পারেন।
ধারা ৪৯৯, আসামী ও জামিনদারের বন্ড:
(১) কোন ব্যক্তিকে জামিনে বা তাহার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার পূর্বে উক্ত ব্যক্তি পুলিশ অফিসার বা আদালত যেইরূপ পর্যাপ্ত মনে করেন সেইরূপ পরিমাণ অর্থের জন্য একটি বন্ড সম্পাদন করিবে এবং যখন তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় তখন এক বা একাধিক পর্যাপ্ত জামিনদার এই শর্তে বন্ড সম্পাদন করিবে যে, উক্ত ব্যক্তি বন্ডে উল্লেখিত সময়ে ও স্থানে হাজির হইবে এবং পুলিশ অফিসার বা আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্তরূপে হাজির হইতে থাকিবে।
(২) মকদ্দমার প্রয়োজন হইলে জামিনে মুক্ত ব্যক্তির জন্য আরও শর্ত থাকিবে যে, অভিযোগের জবাবদানের জন্য আহ্বান করা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত বা অন্য কোন আদালতে হাজির হইতে হইবে।

ভূমি বিষয়ক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংজ্ঞা ও উত্তর

০১। খতিয়ান কী ? মৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরন সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।
০২। সি,এস রেকর্ড কী ? সি,এস হল ক্যাডাস্টাল সার্ভে। আমাদের দেশে জেলা ভিত্তিক প্রথম যে নক্সা ও ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে সি,এস রেকর্ড বলা হয়।
০৩। এস,এ খতিয়ান কী ? সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস,এ খতিয়ান বলা হয়।
০৪। নাম জারী কী ? উত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে বা অন্যকোন প্রক্রিয়ায় কোন জমি থেকে নতুন মালিক হলে তার নাম খতিয়ান ভূক্ত করার প্রক্রিয়া কে নামজারী বলে।
০৫। জমা খারিজ কী ? জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়।
০৬। পর্চা কী ? ভূমি জরিপ কালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকের নিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্ত ভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়।
০৭। তফসিল কী ? তফসিল অর্থ জমির পরিচিতিমূলক বিস্তারিত বিবরন। কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমান ইত্যাদি তথ্যসমৃদ্ধ বিবরন কে তফসিল বলে।
০৮। মৌজা কী ? ক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতিথানা এলাকাকে অনোকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। থানা এলাকার এরুপ প্রত্যেক টি একককে মৌজা বলে।এক বা একাধিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।
০৯। খাজনা কী ? ভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভুমিকর আদায় করে তাকে ভুমির খাজনা বলা হয়।
১০। ওয়াকফ কী ? ইসলামি বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজকল্যানমুলক প্রতিষ্ঠানের ব্যায়ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে।
১১। মোতওয়াল্লী কী ? ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান যিনি করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। মোতওয়াল্লী ওয়াকফ প্রশাষকের অনুমতি ব্যতিত ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।
১২। ওয়রিশ কী ? ওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধানের আওতায় উত্তরাধিকারী । কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরন করলে আইনের বিধান অনুযায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলা হয়।
১৩। ফারায়েজ কী ? ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
১৪। খাসজমি কী ? ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।
১৫। কবুলিয়ত কী ? সরকার কর্তৃক কৃষক কে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে খাজনা প্রদানের যে অংঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।
১৬। দাগ নং কী ? মৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেনী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিমানা খুটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে
আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়। মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্তকরার লক্ষ্যে প্রদত্ত্ব নাম্বার কে দাগ নাম্বার বলে।
১৭। ছুট দাগ কী ? ভূমি জরিপের প্রাথমিক পর্যায়ে নক্সা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভূল ক্রমে বাদ পরে যায় অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের পরে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওয়ার কারনে যে ক্রমিক নাম্বার বাদ দিতে হয় তাকে ছুটদাগ বলা হয়।
১৮। চান্দিনা ভিটি কী ? হাটবাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের অকৃষি প্রজা স্বত্ত্য এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলা হয়।
১৯। অগ্র ক্রয়াধিকার কী ? অগ্র ক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্ত্বি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে অন্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্য তার বিধান । কোন কৃষি জমির মালিকবা অংশিদার কোন আগন্তুকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশিদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্য সহ অতিরিক্ত১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলা হয়।
২০। আমিন কী ? ভূমি জরিপের মধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলা হত।
২১। সিকস্তি কী ? নদী ভাংঙ্গনে জমি পানিতে বিলিন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলা হয় । সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হলে সিকস্তি হওয়ার প্রাককালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন, তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।
২২। পয়স্তি কী ? নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলা হয়।

দেওয়ানী মামলার ধাপ বা পর্যায় সমূহ

আদালত সম্পর্কে বিচার প্রার্থীদের অনভিজ্ঞতা এবং ভয় ভীতি পরোক্ষভাবে আদালতের দাড়গোড়ায় তাদের ভোগান্তি বৃদ্ধি করে। মামলা সাধারণত ফৌজদারী বা দেওয়ানী এই দুই প্রকারের হয়। জমি জমা বা সম্পদ এবং পদ সংক্রান্ত মামলাকে দেওয়ানী মামলা বলা হয়। দেওয়ানী মামলা বিচারে কয়েকটি ধাপ আছে এবং প্রতিটি ধাপের জন্য আইনের কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। দেওয়ানী মামলার পূর্ব শর্ত আরজি গঠন। বাদীর নালিশের লিখিত বিবরণকে আরজি বলা হয়।

১। মামলা দায়ের ও আরজি গ্রহণ:
দেওয়ানী মামলা শুরু হয় আরজি গ্রহণের মাধ্যমে। দেওয়ানী আদালতের সেরেস্তাদার বা তার অনুপস্থিতিতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত কর্মচারী মামলার আর্জি গ্রহণ করে আরজির গায়ে বা তার সাথে যুক্ত অর্ডারশিটে বা স্লিপে মামলার ফাইলিং নম্বর লিখবেন। যেমন- দেওয়ানী মামলা নং – ১০০/২০১২(এর অর্থ হল ঐ আদালতের ২০১২ সালের ১০০ নম্বর দেওয়ানী মামলা)। এরপর সেরেস্তাদার অর্ডারশিটে আলাদা করে এবং সিল মোহর লাগিয়ে যিনি আর্জি উপস্থাপন করবেন তার কাছে ফেরত দিবেন। এরপর আর্জির সাথে দাখিল হতে পারে এরূপ সকল কাগজ পত্রে মামলার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। সেরেস্তাদার আর-১২ ফাইলিং রেজিষ্টারে (যাকে সু্ট রেজিষ্টারও বলা হয়) আর্জির বিষয় বস্তু ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করবেন। সাধারণত যেদিন আর্জি গ্রহণ করা হয়, সেদিনই তা নিবন্ধকৃত হয়। সেরেস্তাদার আর্জি পরীক্ষা করে আর্জির প্রথম পৃষ্ঠার বাম প্রান্তের উপরিভাগে ষ্ট্যাম্প পর্যাপ্ত হয়েছে কিনা তা লিখবেন। অপর্যাপ্ত ষ্ট্যাম্প থাকলে তাও উল্লেখ করবেন এবং বাকী ষ্ট্যাম্প আদায়ের পর ২য় বার তা উল্লেখ করে প্রত্যায়ন করবেন(সি. আর. ও, ভলিউম -১, বিধি-৫৫)। ২১ দিনের মধ্যে বাকী ষ্ট্যাম্প প্রদান করতে হয়। এইভাবে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হয়।

২। আর্জি ফেরত বা প্রত্যাখ্যান:
আর্জি ফেরত বা প্রত্যাখান হওয়া উচিত মনে করলে সেরেস্তাদার তা বিচারকের নিকট উল্লেখ করবেন। বিচারক আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহণ করবেন (সি. আর. ও, ভলিউম-১, বিধি-৫৫)। কোন কারণে আর্জি সঠিকভাবে মূল্যায়িত না হলে তা সংশোধনের জন্য পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয় যার সময়সীমা ২১ দিন।

৩। সমন জারীঃ
একটি মামলা দায়েরের পরের ধাপ সমন জারী। সমন দু’ভাবে জারী করা হয়। আদালতের জারীকারকের (পদাতিকের) মাধ্যমে এবং আদালতের সেরেস্তা কর্তৃক ডাকযোগে। সমনের সাথে মামলার আর্জি, বাদীর ফিরিস্তিযুক্ত কাগজের কপি (আর্জির বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ কাগজপত্র যা আর্জির দাবীকে সমর্থন করে), ওকালতনামা, তলবানা (বিবাদীর নামীয় সমন জারীর ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া কোর্ট ফি) দাখিল করতে হয়।
মামলার সমন বিবাদী সরাসরি গ্রহণ করলে তা সরাসরি জারী হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের জারীকারক (পদাতিক) যখন বিবাদীর উপর সমন জারীর জন্য যাবে তখন সমন নোটিশের অপর পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দু’জন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির স্বাক্ষর বা টিপ গ্রহণ করবেন।
সাধারণত সমন বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে জারী হতে হয়। তার অনুপস্তিতে তার পক্ষে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির উপর সমন জারী হতে হবে। যদি তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি পাওয়া না যায়, তবে তার পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্যের উপর সমন জারী করতে হয়। এক্ষেত্রে ভৃত্য পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন না। (দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৫, বিধি-১২ ও ১৫)।

৪। জবাব দাখিলঃ
বিবাদী মামলা ১ম শুনানীর তারিখ বা তৎপূর্বে বা আদালতের অনুমোদিত সময় দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন (দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ -৮, বিধি-১)। তা না হলে মামলাটি একতরফা শুনানীর জন্য নির্ধারিত হবে। তবে দেওয়ানী কার্যবিধির ৮০ ধারার নোটিশ জারী না হলে সরকার জবাব দাখিলের জন্য ৩ মাস সময় পাবে। বিবাদী যদি তার দাবীর সমর্থনে কোন দলিলাদির উপর নির্ভর করে, তবে তা ফিরিস্তি সহকারে ঐ দলিলাদি দাখিল করবেন।

৫। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহির্ভূত শূনানীঃ
১ ম শুনানীর তারিখে যদি দেখা যায় যে, মামলার পক্ষদের মধ্যে কোন বিরোধীয় বিষয় নেই তবে তা অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে মামলা মূলতবি করার কোন সুযোগ নেই।

৬। ইস্যু গঠনঃ
মামলার ১ম শুনানীর তারিখ বা জবাব দাখিলের মধ্যে যেটি পরে, তা হতে ১৫ দিনের মধ্যে ইস্যু গঠন করতে হবে(দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১৪, বিধি-১)। যেসব বিরোধীয় বিষয়ের উপর মামলা নিষ্পত্তি হবে সেসড বিষয় বস্ত নিয়ে ইস্যু গঠন করা হবে।
৭। উদঘাটন ও পরিদর্শনঃ
ইস্যু গঠনের ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে অপর পক্ষকে প্রশ্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে একটি পক্ষকে একবারই লিখিত প্রশ্ন দাখিল করতে পারবেন (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১১, বিধি-৮)

৮। ৩০ ধারার তদবিরঃ
ইস্যু গঠনের পর উভয় পক্ষের কোন তদ্বীর আছে কিনা তার জন্য এই পর্যায়টি রাখা হয়।

৯। চূড়ান্ত শুনানীর তারিখ নির্ধারণ (এস. ডি)ঃ ইস্যু গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করতে হয় (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১৪, বিধি-৮)
১০। চূড়ান্ত শুনানীঃ
চূড়ান্ত শুনানীর (পি. এইচ) তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার শুনানী শেষ করতে হয় (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ১৮, বিধি-১৯)। চূড়ান্ত শুনানী (পি. এইচ) ও পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানী (এফ. পি. এইচ বা পার্ট হার্ড) পর্য্যায়ে বিচারক জবানবন্দী, জেরা, দলিলাদি গ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শুনবেন।

আইন বিষয়ক কতগুলি ইংরেজি শব্দের অর্থ

গৃহনির্মাণ, নিরাপত্তা, জোনিং ইত্যাদি বিষয়ক ব্যাপারে যে-সব বিধি কর্পোরেশন, সরকার বা অন্যান্য অধিকারিক সংস্থা জারী করে।
আপীল (Appeal): নিম্ন আদালতের রায়ের পুনর্বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা।
আরবিট্রেশন (Arbitration): বিবাদকারী দুই দলের অনুমোদিত নির্দলীয় কোন তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে কলহের বিচার – যার রায় বিবাদকারীরা মানতে স্বীকৃত।
এলিবাই (Alibi): অপরাধ সংঘটিত হবার সময় অভিযুক্তের অন্য কোথাও থাকার দাবী।
ইনটারলোকিউটরি (Interlocutory): অস্থায়ী, অন্তর্বতী কালের জন্য।
উইল (Will) বা ইচ্ছাপত্র: কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ধনসম্পত্তি কি ভাবে বণ্টন করা হবে – সে বিষয়ে তাঁর ইচ্ছাপত্র।
ইনটেস্টেট (Intestate): যে ব্যক্তি উইল বা ইচ্ছাপত্র না লিখে মারা গেছে – তার স্ট্যাটাস বা অবস্থা।
একস্ট্রাডিশান (Extradition):
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি আইন-এলাকা (রাজ্য, রাষ্ট্র, ইত্যাদি) থেকে অন্য আইন-এলাকায় হস্তান্তরিত করা।
এনট্র্যাপমেন্ট (Entrapment): কাউকে অন্যায় কর্মে প্রণোদিত করা – যাতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায়।
এফ.আই.আর. (F.I.R.): এটি ফাস্র্ট ইন্ফরমেশন রিপোর্ট-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। কোন অপরাধ সংঘটিত হবার পর উত্পীড়িত ব্যক্তি বা অন্য কেউ সেই সম্পর্কে থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে অভিযোগ জানালে – অফিসারের দায়িত্ব সেটিকে নথিভুক্ত করা। সেই লিখিত রিপোর্টটি হল এফ.আই.আর। এর ভিত্তিতে পুলিশের তার অনুসন্ধান শুরু করে।
এফিডেভিট (Affidevit): হলফপত্র বা শপথনামা: শপথ দেওয়ানোর ক্ষমতা আছে এমন কোনও লোকের সামনে স্বেচ্ছায় শপথপূর্বক লিখিত বিবৃতি দাখিল করা।
এমবেজেলমেণ্ট (Embezzlement) বা তহবিল তছরুপ: বিশ্বাসভরে কারোর গচ্ছিত অর্থ বা সম্পত্তি নিজের জন্য আত্মসাত করা।
ওয়ারেণ্ট (Warrant): সাধারণ ভাবে কাউকে আটক করা বা কোথাও তল্লাসী চালাবার জন্য পুলিশকে দেওয়া আদালতের হুকুম। আদালতের কাছে থেকে এই ওয়ারেণ্ট বার করার জন্য পুলিশকে আটক বা তল্লাসী চালানোর প্রয়োজনীয়তা তথ্য সহযোগে আদালতে পেশ করতে হয়।
কনটেমপ্ট অফ কোর্ট (Contempt of Court) বা আদালতের অবমাননা:
ইচ্ছাকৃত ভাবে বিচারকের আদেশ বা বিচার-বিভাগীয় হুকুম অমান্য করা।
কনভেয়্যান্স (Conveyance): কোনও জমির সত্ব এক বা একাধিক লোকের হাত থেকে অন্য হাতে যাওয়ার দলিল।
করপাস ডেলিকটি (Corpus delicti): যার ওপর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে – তার বস্তু-অবশেষ উদ্ধার করা। যেমন, খুনের লাস বা পুড়িয়ে দেওয়া বাড়ির দগ্ধাবেশেষ, ইত্যাদি।
কুইড প্রো কো (Quid pro quo): এই ল্যাটিন শব্দটির অর্থ – ‘কিসের জন্য কি’ বা ‘কিছুর জন্য কিছু’। অর্থাত্, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। কোন কণ্ট্র্যাক্ট পালন বাধ্যতামূলক হয় যখন দুই পক্ষের মধ্যে মূল্যবান কোন বস্তুর আদান-প্রদান ঘটে। সেইজন্য যখন কোনো কোম্পানী তাদের নতুন তৈরী করা জিনিষ বাজারে বিক্রি করার আগে পরীক্ষা করার জন্য লোকদের ব্যবহার করতে দেয়, তখন তার জন্য সাধারণত টাকা নেয় না। এই জন্য যে, সেই বস্তু কাজ না করলেও তার জন্য ব্যবহারকারীদের আইনত কিছু করার থাকে না।
কোডিসিল (Codicil): উইল বা ইচ্ছাপত্রের সংশোধন।
ক্যাপিটল ক্রাইম (Capital crime): যে অপরাধের দণ্ড হল মৃত্যু।
ক্রিমিন্যাল ইনস্যানিটি (Criminal insanity): ভালো ও মন্দের তফাত্ বোঝার অক্ষমতা; কোনও কিছু করার বা করা থেকে বিরত হবার মানসিক অক্ষমতা।
ক্লাশ একশন (Class action): যে মামলা এক বা একাধিক লোক একটি সমগ্র দলের হয়ে আদালতে আনে।
জয়েণ্ট এণ্ড সেভারেল লায়াবিলিটি (Joint and several liability): আইনের একটি ভাষা, যার অর্থ দুর্ঘটনার জন্য কোন দল দায়ী হলে, সেই দলের প্রত্যেকটি ব্যক্তি আলাদা ভাবে পুরো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে – যদি অন্য কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অসমর্থ হয়।
জয়েন্ট টেনানসি(Joint tenancy): যুগ্মভাবে সম্পত্তির মালিকানা (একে অনেক সময়ে ‘সার্ভাইভারশিপ’ বলা হয়)। এক্ষেত্রে একজন মালিকের মৃত্যু হলে, অন্যজন সম্পাত্তির পুরো মালিকানা পায়।
জাজমেণ্ট (Judgement) বা রায়:
মামলায় দুই পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্য প্রমাণ শোনার পর বিচারক তাঁর যে সিদ্ধান্ত সরকারি ভাবে প্রকাশ করেন।
জুভেনাইল ডেলিনকোয়েন্সি (Juvenile delinquency): বালক-বালিকাদের করা অপরাধ।
ডমিসাইল (Domicile) : স্থায়ী বাসস্থান।
ডিফামেশন (Defamation): মানহানি।
ডিসকভারি (Discovery): মামলা শুরু হবার আগে তার সম্পর্কিত ঘটনাসমূহ ও তথ্যাদি জানার উপায়গুলি।
ডিসমিস্যাল (Dismissal): মামলার খারিজ।
নেগলিজেন্স (Negligence): সাধারণভাবে একজন বিচারবুদ্ধি-সম্পন্ন পরিণামদর্শী লোক যে সাবধনতা অবলম্বন করবে সেটা না করা।
নোটারি পাবলিক (Notary Public): সরকারী কর্মচারী যার কাজ হল লোককে শপথ করানো, স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত কাগজে কেউ সই করার পর সেটিতে সই করে তাকে প্রামাণিক করা, ইত্যাদি।
পেটেণ্ট (Patent): উদ্ভাবকদের দেয় অধিকার

আইন বিষয়ক গুরুত্বপুর্ন কিছু শব্দের পূর্ণ রুপ

১। প্রশ্নঃ A.D.R এর অর্থ কি? উত্তরঃ Alternative Dispute Resolution.
২। প্রশ্নঃ A.D.M এর অর্থ কি? উত্তরঃ Additional District Magistrate.
৩। প্রশ্নঃ A/D কি? উত্তরঃ Acknowledgement due.
৪। প্রশ্নঃ A.G.P এর অর্থ কি? উত্তরঃ Assistant Government Pleader.
৫। প্রশ্নঃ A.P.P এর অর্থ কি? উত্তরঃ Assistant Public Prosecutor.
৬। প্রশ্নঃ C.J.M. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Chief Judicial Magistrate.
৭। প্রশ্নঃ C.M.M. অর্থ কি? উত্তরঃ Chief Metropolitan Magistrate.
৯। প্রশ্নঃ C.S.I. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Court Sub Inspector.
১০। প্রশ্নঃ C.S. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Charge Sheet.
১১। প্রশ্নঃ C.R. Case এর অর্থ কি? উত্তরঃ Complaint Resister Case.
১২। প্রশ্নঃ D.F. অর্থ কি? উত্তরঃ Date of Filing.
১৩। প্রশ্নঃ D.M. এর অর্থ কি? উত্তরঃ District Magistrate.
১৪। প্রশ্নঃ D.O. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Date of Occurrence.
১৫। প্রশ্নঃ D.W. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Defense witness.
১৬। প্রশ্নঃ F.R.T. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Final Report True.
১৭। প্রশ্নঃ F.I.R. এর অর্থ কি? উত্তরঃ First Information Report.
১৮। প্রশ্নঃ F.H. কি? উত্তরঃ Further hearing.
১৯। প্রশ্নঃ G.D.E. এর অর্থ কি? উত্তরঃ General Diary Entry.
২০। প্রশ্নঃ G.P. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Government pleader.
২১। প্রশ্নঃ G.R. Case এর অর্থ কি? উত্তরঃ General Register Case.
২২। প্রশ্নঃ G.R.O. এর অর্থ কি? উত্তরঃ General Registration Officer.
২৩। প্রশ্নঃ I.O. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Investigation officer.
২৪। প্রশ্নঃ L.L.B এর অর্থ কি? উত্তরঃ Bachelor of Laws. তবে ল্যাটিন ভাষায় এর অর্থ Legis Legum Baccalaureus
২৫। প্রশ্নঃ N.D. অর্থ কি? উত্তরঃ Next Date.
২৬। প্রশ্নঃ P.H. অর্থ কি? উত্তরঃ Peremptory hearing.
২৭। প্রশ্নঃ P.O. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Place of Occurrence.
২৮। প্রশ্নঃ P.P. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Public Prosecutor
২৯। প্রশ্নঃ P.W. কি? উত্তরঃ Prosecution witness
৩০। প্রশ্নঃ S.D. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Settling date.
৩১। প্রশ্নঃ S.W এর অর্থ কি? উত্তরঃ Search Warrant.
৩২। প্রশ্নঃ S/R কি? উত্তরঃ Service Return
৩৩। প্রশ্নঃ T.S. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Title suit.
৩৪। প্রশ্নঃ W.A. এর অর্থ কি? উত্তরঃ Warrant of Arrest.
৩৫। প্রশ্নঃ W/O. কি? উত্তরঃ Written objection
৩৬। প্রশ্নঃ W/S. কি? উত্তরঃ Written statement.
৩৭। প্রশ্নঃ W/W কি? উত্তরঃ Witness Warrant

আইন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দের অর্থ

Concept-ধারণা
Doctrine-মতবাদ
Proportional-সমানুপাতিক
Administrative Law-প্রশাসনিক আইন
Administration- প্রশাসন, শাসন কার্য
Legitimate-বৈধ, আইন সম্মত
Noteworthy-উল্লেখযোগ্য, লক্ষণীয়
Promise-প্রতিশ্রুতি, ওয়াদা, অঙ্গীকার, শপথ
Procedure-প্রক্রিয়া, কার্যপ্রনালি, কার্য পরিচালনার ধারা
Act-আইন
Fairly-নিরপেক্ষভাবে
Implement-বাস্তবায়ন
Implementation-বাস্তবায়ন
Interfere-হস্তক্ষেপ করা
Statutory-সংবিধিবদ্ধ, আইন বলে নির্দিষ্ট
Treat-আচরণ করা
Authority-কর্তৃত্ব, বিধিসঙ্গত ক্ষমতা
Adverse-প্রতিকূল
Affect-অনুভূতি
Judicature-আদালত, বিচারাধিকার, বিচারপতির পদ
Judicial-বিচারসংক্রান্ত
Implicit-অন্তর্নিহিত
Implicate-সংশ্লিষ্ট করা
Privilege-বিশেষ অধিকার
Practice-অনুশীলন, চর্চা
Applicant-দরখাস্তকারী, আবেদনকারী
Reasonable-যৌক্তিক, যুক্তিসঙ্গত
Citizen-নাগরিক
Context-প্রসঙ্গ, প্রেক্ষাপটে
Natural Justice-ন্যায়বিচার
Appearance-উপস্থিতি
Wherein-যাহাতে
Allow-মঞ্জুরি, অনুমতি
Consult-পরামর্শ করা
Decision-সিদ্ধান্ত, ফয়সালা
Review-পর্যালোচনা, পুনর্বিবেচনা
Afford-সামর্থ
Base-ভিত্তি
Instance-উদাহরণ
Satisfy-পরিতৃপ্ত করা
Foundation-ভিত্তি
Claim-দাবি, দাবি করা
Consider-বিবেচনা করা
Grant-মঞ্জুর
Relief-উপশম, ত্রাণ

বিদেশ থেকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

এই জন্য অন্তত ১ দিনের জন্য হলেও  husband k বাংলাদেশে আসতে হবে বাংলাদেশে এসে  কাজী অথবা একজন আইনজীবীর কাছে যেতে হবে, সেখানে গিয়ে  তার স্ত্...