Saturday, 11 November 2017

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭* ফুটপাত দিয়ে মোটর সাইকেল চালালে ৩ মাস কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা।
* সংরক্ষিত নারী আসনে বসতে না দিয়ে কেউ ওই আসনে বসলে তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
* গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।
* সাধারণ চালকের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।
* লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
* হেলপার বা শ্রমিক গাড়ি চালাতে পারবেন না।
* প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালালে, সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা না হলেও চালকের ২ বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। গতিসীমা লঙ্ঘন করলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
* দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটলে দণ্ডবিধির আওতায় বিচার হবে।
* সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনে আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় দায়ীকে আটক করতে পারবে।
* হেলপারেরও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
* চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
* নেশা জাতীয় দ্রব্য বা মদ পান করে কেউ গাড়ি চালালে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা। ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালালে ৩ মাস কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা।
* গাড়ী চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা এরূপ কোনো ডিভাইজ ব্যবহার করলে ১ মাসের জেল বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন চালক।
* ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
* রাস্তায় মোট ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। বিভিন্ন অপরাধের জন্য চালকের পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট শূন্য হয়ে গেলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

সংবিধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

√ সংবিধান ছাপাতে ব্যয় হয়েছিলো – ১৪ হাজার টাকা ;
√ সংবিধান অলংকরণের দায়িত্বে ছিলেন – শিল্পী হাশেম খান ;
√ সংবিধান গণপরিষদে বিল আকারে উত্থাপিত হয়- ১২ই অক্টোবর , ১৯৭২সাল;
√ সংবিধান গণপরিষদে বিল আকারে উত্থাপন করেছিলেন – ড. কামাল হোসেন ;
√ সংবিধান গণপরিষদে পাশ এবং আইনে পরিণত হয় – ৪ঠা নভেম্বর , ১৯৭২ সাল;
√ সংবিধান জাতীয় সংসদে প্রণীত হয় – ৪ঠা নভেম্বর,১৯৭২ সাল;
√ সংবিধান জাতীয় সংসদে কার্যকর হয় -১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭২ সাল;
√ মূল সংবিধানের কপিটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে – বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ;
√ সংবিধানের প্রথমেই রয়েছে – প্রস্তাবনা
√ সংবিধানের প্রথম ভাগে বলা হয়েছে -রয়েছে – প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের প্রথম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – সাতটি ;
√ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বলা হয়েছে -রয়েছে – রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – আটারো টি ;
√ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বলা হয়েছে – মৌলিক অধিকার সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – একুশ টি ;
√ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে বলা হয়েছে – নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – ষোল টি;
√ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে বলা হয়েছে -আইনসভা সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – ঊনত্রিশটি ;
√ সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বলা হয়েছে – বিচার বিভাগ সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – চব্বিশটি;
√ সংবিধানের সপ্তম ভাগে বলা হয়েছে – নির্বাচন সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের সপ্তম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – নয়টি ;
√ সংবিধানের অষ্টম ভাগে বলা হয়েছে – মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের অষ্টম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – ছয়টি ;
√ সংবিধানের নবম ভাগে বলা হয়েছে -বাংলাদেশের কর্মবিভাগ সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের নবম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – দশটি ;
√ সংবিধানের দশম ভাগে বলা হয়েছে – সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের দশম ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – একটি ;
√ ১২ সংবিধানের একাদশ ভাগে বলা হয়েছে – বিবিধ সম্পর্কে ;
√ সংবিধানের একাদশ ভাগে অনুচ্ছেদ রয়েছে – এগার টি ;

নোটারি পাবলিক ও তার কাজ

নোটারি পাবলিক ও তার কাজ

 নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস, ১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পেশা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত কোনো ব্যক্তি যিনি কমপক্ষে সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন অথবা সরকারের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং বা সরকারের আইন প্রণয়ন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নোটারি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।

একজন নোটারি নিম্নলিখিত সব অথবা যে কোনো কাজ করতে পারে:
(১) কোনো দলিলের সত্যতা প্রমাণ করা, সত্যায়িত অথবা প্রত্যয়ন করা। (২) পেমেন্ট অথবা ডিমান্ডের ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রত্যর্থপত্র (প্রমিজরি নোট), হুন্ডি অথবা বিল অব এক্সচেঞ্জ উপস্থাপন করা। (৩) কোনো প্রমিজরি নোট, হুন্ডি অথবা বিল অব এক্সচেঞ্জ গ্রহণে অস্বীকৃতি বা নন-পেমেন্টের মাধ্যমে সৃষ্ট ডিজঅনারের চিহ্ন দেয়া বা ঘোষণা করা অথবা নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর অধীনে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ঘোষণা নোটিশ জারি করা। (৪) শপথ পরিচালনা করা অথবা কোনো ব্যক্তি থেকে শপথপত্র গ্রহণ করা। (৫) বটমরি এবং রেসপনডেনশিয়া বন্ড, চার্টার পার্টি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রস্তুত করা। (৬) বাংলাদেশের বাইরে কোনো দেশ অথবা জায়গায় কার্যকর কোনো দলিল সেখানকার আইনের সঙ্গে মিল রেখে একই আকারে এবং ভাষায় প্রস্তুত করা, সত্যতা প্রমাণ করা। (৭) কোনো দলিল এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করা এবং অনুবাদের সত্যতা প্রমাণ করা। (৮) নির্ধারিত অন্য যে কোনো কাজ করা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া : আগ্রহী প্রার্থীকে নির্ধারিত ফরমে (আবেদন) প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যাদি প্রদান করে একটি আবেদন করতে হয় এবং ওই প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিসহ কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হতে হয়। গৃহীত প্রত্যেকটি আবেদন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং বিষয়টির ওপর তদন্ত করবে।
নিযুক্তির জন্য সুপারিশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।যথা: (ক) আবেদনকারী ওই এলাকায় বসবাস করে কিনা; (খ) ওই এলাকার কোনো বাণিজ্যিক গুরুত্ব আছে কিনা; (গ) আবেদনকারীর বাণিজ্যিক আইন সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে কিনা; (ঘ) একাধিক নোটারি সমন্বয়ে আবেদনকারীর কোনো আইনজীবী ফার্ম আছে কিনা; (ঙ) আবেদনকারী ওই এলাকার অন্যান্য আবেদনকারী অপেক্ষা অধিক উপযুক্ত কিনা।
উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নোটারি হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে সচিব বরাবর সুপারিশমালা প্রেরণ করার পর নোটারি সার্টিফিকেট ফি ট্রেজারিতে জমা প্রদান সাপেক্ষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক নোটারি পাবলিক নিয়োগ করে থাকে এবং প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর নবায়ন ফি জমা প্রদান সাপেক্ষে নোটারি সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয়। আইনের অধীনে সরকার কর্তৃক পরিচালিত নোটারি রেজিস্ট্রারে তার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রত্যেক নোটারি প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিগত বছরে তার দ্বারা কৃত কাজের একটি রিটার্ন দাখিল করেন।

প্রিসিডেন্ট বা নজির কি?

প্রিসিডেন্ট বা নজির কি?আসুন আইনি ভাষায় না গিয়ে আমরা আগে সহজে বোঝার চেষ্টা করি, “তার নজিরবীহিন কলায় সবাই মুগ্ধ” এর মানে কি দাড়ায়? সে এমন একটা কাজ করেছে যা আগে দেখা যায়নি । ঠিক তেমনি বিচার কাজ করতে গিয়ে বিচারক গন অনেক নতুন নতুন সমস্যায় পড়েন এবং নজিরবীহিন রায়ের মাধ্যমে তার সমাধান করেন। এই নজিরবীহিন রায়গুলো তখন নজির হয়ে থাকে। যেহেতু এগুলো বিভিন্ন কোর্টের রায়ের মাধ্যমে আসে তাই এই নজির (precedent) কে আরও কিছু আইনে নামেও ডাকা হয় যেমন: Case law, Rulings etc  

এই নজির কিন্তু আবার অধ:নস্ত কোর্টের উপর ফরজ (বাধ্যতামূলক) যাই হোক সেই প্রসঙ্গে একটু পড়ে আসছি এবার একটু ইতিহাসের দিকে আসা যাক বাংলাদেশে এই নজিরের আগমন ব্রিটিশদের হাত ধরে, কমন ল এর মাধ্যমে, এমনকি সালমন্ড মনে করেন কমন ল,য়ের প্রায় পুরোটাই এসেছে নজিরের মাধ্যমে। ইংল্যান্ডের বিচারকরা ছিলেন তাদের বিচারীক বিষয়ে বিজ্ঞ এবং খুবই সম্মানীয় ব্যক্তি, তাই তাদের দর্শন ও বিচারকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হত, আবার তারাই ক্ষেত্র বিশেষে আইন প্রণেতাও ছিলেন ।
নজিরের মূল উপাদান ধরা হয় Stare decisis Stare মতবাদকে। এটি একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ decisis non quet movere অর্থাৎ ‘সিদ্ধান্তে অটল থাকা এবং গৃহীত সিদ্ধান্তে ব্যতিক্রম না ঘটানো’। মানে হচ্ছে, আদালতের কোন রায় আদেশ বা সিদ্ধান্তে যা আসে পরবর্তীতে ঠিক একই রকম মামলায় আগের মতই আদেশ আসবে। এবং আমাদের সংবিধানেও তাই বলা আছে।
সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট সহ অধঃ:ন্যস্ত আদালতের উপর বাধ্যতামূলক। তবে মনে রাখতে হবে এই যে, কোন রায়ের সম্পূর্ণ অংশই কিন্তু নজির নয়। রায়ের যেই অংশে সিদ্ধান্তের কারণ / নিয়ম দেয়া থাকে সেটুকুই বাধ্যতামূলক (যদি বিষয় ও ঘটনা এক ঘটে তবেই)। আবার সব রায়েই নজির সৃষ্টিকারী উপাদান থকে না।

আবার আসা যাক কে কার কথা শুনতে বাধ্য (আদালত) বা বাধ্য নয়। ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজানে হোল।

আপিল বিভাগ

  • বাংলাদেশের সকল নিম্ন আদালত এবং ট্রাইব্যুনাল আপিল বিভাগের রায় মেনে চলতে বাধ্য।
  • আপিল বিভাগ নিজে নিজের রায় মেনে চলতে বাধ্য নয়।
  • আপিল বিভাগ নিজ রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন (অ: ১০৫)
হাইকোর্ট বিভাগ
  • হাইকোর্ট বিভাগ আপিল বিভাগের রায় মেনে চলতে বাধ্য।
  • হাইকোর্ট বিভাগের রায় সকল নিম্ন আদালত মেনে চলতে বাধ্য।
  • হাইকোর্ট বিভাগের রায় সকল নিম্ন আদালত মেনে চলতে বাধ্য তবে কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে বাধ্য নয়।
জেলা জজ দায়রা আদালত বা সেশন জজ
  • হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের রায় মেনে চলতে বাধ্য।
  • জেলা জজ ও দায়রা আদালত কোন নজির সৃষ্টি করেন না।
অন্যান্য আদালত
  • হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের রায় মেনে চলতে বাধ্য।

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্যতা

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্যতা

 প্রাথমিক শর্তাবলী
1. বার কাউনসিল পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোন বার এসোসিয়েশনে অ্যাডভোকেট (সাধারণ অ্যাডভোকেটের তালিকাভুক্তিকরণ) হিসাবে তালিকাভুক্তহতে হবে।
2. নিম্নোক্ত যে কোন একটি যোগ্যতা থাকতে হবে :-

  1. বাংলাদেশের কোন নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছর প্র্যাকটিস করতে হবে; অথবা,
    B. আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীএবং অ্যাডভোকেট হিসাবে বিদেশের কোন আদালতে সরকারের অফিসিয়াল গেজেটে নির্দেশিত পন্থায় প্র্যাকটিস করেছেন; অথবা,
    C. যুক্তরাজ্যের বারে ব্যারিস্টার হিসাবে Call পেয়েছেন অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেLL.M এ 2nd class (50%mark) পেয়েছেন এবং সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বারে কমপক্ষে ২ বছর কাছ করেছেন; অথবা,
    D. বিচার বিভাগীয় অফিসার হিসাবে অন্ততঃ দশ বছর কাজ করেছেন। এরূপ অফিসারকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রণেরআবশ্যকতা নেই।
দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তাবলীঃ
  1. কোন অ্যাডভোকেট যিনি উপরিউক্ত শর্তাবলী পূরন করেছেন তাকে নির্দেশিত পন্থায় হাইকোর্ট বিভাগে আইন চর্চা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানাতে হবে। আবেদন পত্র বার কাউনসিলে জমা দিতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রে নিম্নোক্ত সংযুক্তিথাকবেঃ
    A. সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশন হতে একটি সনদ এই মর্মে যে, উক্ত অ্যাডভোকেট তার বার এসোসিয়েশনের নিয়মিতসদস্য এবং আইন চর্চাকরেছেন ২ বছর , অথবা , যুক্তারাজ্যের বারেতাকে ব্যারিস্টার হিসাবে Call করেছে এই মর্মে একটি সনদ, অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে LL.M এ উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ অর্জন করেছে; এবং
    B. কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বারে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করেছেন; এবং
    C. দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা উভয় মামলা যা নিয়ে উক্ত অ্যাডভোকেট সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়েছে এরূপ ২৫টি মামলার তালিকা; এবং
    D. হাইকোর্টের অনুমোদন ফি ৫,০০০ টাকা প্রদানের রশিদ কিংবা ব্যাংক ড্রাফট; এবং
    E. উক্ত অ্যাডভোকেটের ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
    2. প্রত্যেক আবেদনকারীকে Bangladesh Legal Paractitioners and Bar Council Rules, 1972 (65(2)) অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণপূর্বক পাশ করতে হবে।

দলিলে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকম শব্দের অর্থ জেনে রাখুন

দলিলে ব্যবহূত এ রকম কিছু শব্দের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি নিচে তুলে ধরা হলো—
সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ। যেমন: যদি লেখা থাকে আবদুল কাদের গং তাহলে বুঝতে হবে যে আবদুল কাদেরের সঙ্গে আরও অনেকে আছেন।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান বা বিক্রয়কেন্দ্র বোঝাতেই এটি ব্যবহূত হয়।
কিঃ = কিস্তি। কিন্তু শব্দটি দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহূত হয়। এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে। যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ‘ক্বত্বহ’ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা। যেমন: ছানি মামলা।
সোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/ আপস।ছোলেনামা মানে আপস- মীমাংসাপত্র।
জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে ‘জমা’ বলতে সঞ্চিত,রাশীকৃত, স্তূপীকৃত হওয়া বোঝায়। কিন্তু ভূমি আইন ও দলিল-দস্তাবেজে এটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। যেমন: জমা মানে পুঁজি, মোট, খাজনা, রাজস্ব, বার্ষিক কর [হাওলার বার্ষিক জমা ১০ টাকা]। আবার ‘জমা ওয়াশিল’-এর অর্থ আয়-ব্যয়ের হিসাব; ‘জমা ওয়াশিল বাকি’ মানে দেয় খাজনার কত আদায় বা লভ্য খাজনার কত আদায় হয়েছে এবং কত বাকি আছে তার হিসাব; ‘জমা খারিজ’ অর্থ যৌথ খতিয়ানের জমা থেকে কোনো সহমালিক বা অংশীদারের আবেদনক্রমে তার অংশ আলাদা করে যে নতুন জমা ও খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।
খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
দং = দরুন, বাবদ, দখল।
নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়।
পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয়।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা।
মুসাবিদাকারক= মানে যিনি দলিল লেখেন।
হিঃ = হিসাব শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ|
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তান্ত অর্থে ব্যবহূত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।

উইল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

উইল বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।
উইলের শর্তঃ
(ক) মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান এ তিন সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার আইনেরই বিধান হলো যে, সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন যে কোন সাবালক ব্যক্তি উইল করতে পারবেন।
(খ) উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পষ্ট ও সঠিকভাবে নির্ণয়যোগ্য হতে হবে।
(গ) উইল, উইল দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে।
(ঘ) উইল যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন।
উইলের উদ্দেশ্যঃ উইল করা যায় (ক) ব্যক্তির উদ্দেশ্যে এবং (খ) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে। ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উইল আবার দু’প্রকার (১) ওয়ারিশের বরাবরে উইল এবং (২) ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তির বরাবরে উইল।
ওয়ারিশের বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধানঃ
(ক) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খ) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(গ) ওয়ারিশদের সম্মতি কার্যকর হবে উইল দাতার মৃত্যুর পর।
ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তি বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধানঃ
(ক) ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(খ) ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল দাতার নিট সম্পত্তির ১/৩ এর উপর উইল কার্যকরী হবে।
নিট সম্পত্তিঃ উইলদাতার মোট সম্পত্তি হতে নিমড়বরূপ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি নিট সম্পত্তি বলে গণ্য হবে, উইল সর্বদা নিট সম্পত্তির উপর প্রযোজ্য হবেঃ
(ক) উইল দাতার মৃত্যুর অব্যবহিত ৩ মাস পূর্বের ভৃত্য বা চাকরের পাওয়ানাদি।
(খ) মৃত্যু শয্যাকালীন খরচাদি।
(গ) মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের খরচ।
(ঘ) স্ত্রীর দেন-মোহরের পাওয়ানা পরিশোধ ব্যয়।
(ঙ) উইল প্রবেট এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট ব্যয়।
(চ) ঋণ পরিশোধ (আগের ঋণ আগে পরিশোধ ভিত্তিতে)।
(ছ) ঋণ পরিশোধের আগে স্ত্রীর দেন-মোহর পরিশোধ করতে হবে।
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইলঃ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল করা হলে তাতে ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে সে উইল সম্পূর্ণ কার্যকর হবে, আর ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে অছিতকারীর নিট সম্পত্তির ১/৩ অংশের উপর উইল কার্যকরী হবে।
ধর্মীয় উইল ৩ প্রকার, যথা-
(১) ফরজ কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- হজ্জ্ব পালন, যাকাত প্রদান ইত্যাদি।
(২) ওয়াজিব কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- ফিতরা প্রদান, কোরবানী করা ইত্যাদি।
(৩) নফল কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- সরাইখানা, রাস্তা-পুল, এতিমখানা নির্মাণ ইত্যাদি।
উইলের উপাদানঃ
(১) একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক উইল করা হলে সর্বশেষ উইলটি সর্বপ্রথম কার্যকরী হবে এবং সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী উইলগুলো কার্যকরী হবে।
(২) অজাত ব্যক্তি উইলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করলে তার বরাবরে করা উইল বৈধ হবে।
(৩) উইল মৌখিক ও লিখিত দু’ভাবেই করা যায়। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে ২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
(৪) নাবালক উত্তরাধিকারী সাবলকত্ব লাভের পর উইলে সম্মতি দিতে পারবেন।
(৫) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল বাতিল করতে পারেন। সম্পত্তি একবার উইল করার পর পুনরায় তা অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। উইল বাতিলের জন্য মামলার প্রয়োজন হয় না।
(৬) ১৮৭০ সনের হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণপোষনের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে।
(৭) উইলকারীর কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিতে পারেন।
(৮) উইল গ্রহণকারীকে দাতার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকতে হবে।
(৯) উইলকারী মৃত্যুর মুহূর্ত হতে উইল কার্যকর হবে।
উইল বিলুপ্তিঃ নিমেড়বাক্ত কারণে উইল বাতিল বলে গণ্য হবেঃ
(১) উইলের পর উইলদাতা বিকৃত মস্তিষ্ক হলে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি সুস্থ হলেও।
(২) উইল গ্রহীতা দাতার আগে মারা গেলে।
(৩) উইল দাতা বা গ্রহীতা ধর্ম ত্যাগ করলে
(৪) উইল গ্রহীতা দাতাকে হত্যা করলে।
 (৫) উইলকৃত সম্পত্তির উপর অন্য কারো অধিকার সাব্যস্ত হলে।
(৬) উইলকারী উইলকৃত সম্পত্তি বিক্রি বা দান করলে বা তাতে বাড়ি তৈরি করলে।
উইল প্রবেটঃ
উইল বা অছিয়তের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে তার সম্পত্তি উইল করে গেলে উইলটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারবান দেওয়ানি আদালতের অনুমোদন লাগবে, এরূপ অনুমোদন নেয়াকেই বরে উইল প্রবেট। প্রবেট মুসলিম উইলে আবশ্যকীয় নয়। প্রবেটের জন্য আদালতে আবেদন করা হলে অপরাপর ওযারিশদের মতামত জানার জন্য আদালত হতে নোটিশ দেয়া হয়, এ সময় ওয়ারিশগণ উইলের বিরুদ্ধে অসম্মতি জানাতে পারেন। এছাড়া আদালত কালেক্টরের নিকট সম্পত্তির কোর্ট ফি সঠিক আছে কিনা, সম্পত্তিটি সরকারের কিনা, সম্পত্তিটি উইলদাতার কিনা এতে আর কারো স্বার্থ আছে কিনা ইত্যাদি জানতে চেয়ে থাকেন।
দান ও উইলের পার্থক্যঃ
(১) দান সাথে সাথে কার্যকর হয়, উইল কার্যকর হয় অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর।
(২) দান সম্পনড়ব হওয়ার পর আদালতের রায় ব্যতীত তা আর প্রত্যাহার করা যায় না। কিন্তু উইল ইচ্ছেমত বাতিল করা যায়।
(৩) দান করার সময় দানের সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে অন্যদিকে মৃত্যুর পূর্বে পাওয়া যাবে এরূপ যে কোন সম্পত্তি উইল করা যাবে।

বিদেশ থেকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

এই জন্য অন্তত ১ দিনের জন্য হলেও  husband k বাংলাদেশে আসতে হবে বাংলাদেশে এসে  কাজী অথবা একজন আইনজীবীর কাছে যেতে হবে, সেখানে গিয়ে  তার স্ত্...